Home Tach And Tips পুরনো গাড়ি কিনবেন ভাবছেন? পুরনো গাড়ি কেনার আগে যা জানা জরুরি

পুরনো গাড়ি কিনবেন ভাবছেন? পুরনো গাড়ি কেনার আগে যা জানা জরুরি

337
Second Hand Four Wheeler

পুজোর মরসুমে যদি নতুন বা সেকেন্ড হ্যান্ড চার চাকা গাড়ি কেনার পরিকল্পনা ভাবছেন, তবে এক মুহূর্ত থামুন। সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনা মোটেও খারাপ নয়, বরং অনেক সময় তা সাশ্রয়ী ও ভালো বিকল্প হতে পারে (Second Hand Four Wheeler)। কিন্তু কোনও গাড়ি ঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে বা গাড়ির অবস্থা ভালোভাবে না দেখে কেনলে পরে ভোগান্তি ভোগ করতে হতে পারে। তাই আগে ভালোভাবে গাড়িটিকে দেখে, চালিয়ে, সার্ভিস ইতিহাস যাচাই করে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনার সময় শুধু কাগজপত্র, গাড়ির বিমা বা ওভারঅল অবস্থা এবং কত কিলোমিটার চলেছে, এসবই নয়, আরও কিছু জিনিস ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া খুব জরুরি। যেমন ইঞ্জিন, গিয়ারবক্স, ব্রেক সিস্টেম, সাসপেনশন, ইলেকট্রিক্যাল ফিচার, এবং লিক বা রাস্তায় চলাকালীন অস্বাভাবিক শব্দ আছে কি না—এসব বিষয় ভালোভাবে পরীক্ষা করা না হলে পরে সমস্যা হতে পারে।

গাড়ির অবস্থা কেমন: গাড়ি কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার সামগ্রিক অবস্থা বা স্বাস্থ্য। সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির ভিতরের অংশ, যেমন সিট, স্টিয়ারিং, চাকা, ড্যাশবোর্ড সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। এছাড়াও গাড়ির বাইরের দিকেও নজর দিতে হবে—যে কোনো দাগ, স্ক্র্যাচ বা রঙের অসামঞ্জস্য আছে কিনা দেখা গুরুত্বপূর্ণ। ছোটখাটো দাগ সাধারণত চিন্তার নয়, তবে বড় বা গভীর দাগ থাকলে তা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে, কারণ তা পরে বড় সমস্যা এবং অতিরিক্ত খরচের কারণ হতে পারে।

বাজারে কম বিক্রি হওয়া গাড়ি: অনেক সময় দেখা যায়, কিছু কোম্পানির নির্দিষ্ট মডেলের গাড়ি বাজারে ঠিকমত চলতে পারে না। বিক্রি কম হওয়ায় কোম্পানি সেই গাড়ি উৎপাদন বন্ধ করে দেয় এবং পরবর্তীতে খুব কম দামে সেকেন্ড হ্যান্ড হিসেবে বিক্রি করে। এই ধরনের গাড়িকে সাধারণত ‘স্ক্র্যাপ’ গাড়ি বলা হয়। স্ক্র্যাপ গাড়ি থেকে দূরে থাকা উত্তম, কারণ বাজারে এর যন্ত্রাংশ পাওয়া কঠিন হয়। অল্প দামে কেনলেও পরে এর মেরামত বা যন্ত্রাংশ খুঁজতে গিয়ে অনেক অতিরিক্ত খরচ করতে হতে পারে, তাই ঝুঁকি অনেক বেশি।

গাড়ির ইঞ্জিন: সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো ইঞ্জিনের অবস্থা। গাড়ির ইঞ্জিন ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তেলের লিক আছে কি না, অস্বাভাবিক শব্দ বা কম্পন তো নেই—এসব ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি। এজন্য একজন দক্ষ মেকানিককে সঙ্গে নিয়ে গাড়ি পরীক্ষা করানোই বুদ্ধিমানের কাজ। বিক্রেতার কথা সরাসরি সত্যি ধরে নেওয়া ঠিক নয়, কারণ অনেক সময় বাস্তব অবস্থা আলাদা হতে পারে।

গাড়িটির ‘রেজিস্ট্রেশন’: কাগজপত্র দেখার সময়ই ‘রেজিস্ট্রেশন’ সম্পর্কে জানতে পারবেন। তবে খুব পুরনো ‘রেজিস্টার’ হওয়া গাড়ি না কেনাই ভাল। দেখা যাচ্ছে, গাড়িটি খুব বেশি চলেনি, অবস্থাও ভাল আছে, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন অনেক দিনের। তা হলে সেটিকে এড়িয়ে যাওয়ায়ই শ্রেয়। কারণ পুরনো ‘রেজিস্ট্রেশন’ যে কোনও দিন বাতিল হয়ে যেতে পারে। অনেক রাজ্য সরকার পুরনো গাড়ি চালানোর ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করছে।

ডিজেলে চলা গাড়ি: ইলেকট্রনিক ও বৈদ্যুতিক গাড়ির যুগে ডিজেলের গাড়ি ধীরে ধীরে পুরনো হয়ে যাচ্ছে। নতুন হোক বা সেকেন্ড হ্যান্ড, এখন ডিজেলের গাড়ি কেনা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কারণ ভারত সরকার দীর্ঘদিন ধরেই ডিজেলের গাড়ি সীমিত করার পরিকল্পনা করছে। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি কমিটি সুপারিশ করেছে, ২০২৭ সাল থেকে ভারতে ডিজেল গাড়ি চালানো বন্ধ করা যেতে পারে। তাই এই ধরনের গাড়ি এড়িয়ে চলাই ভালো এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত ঝুঁকি ও খরচ থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করবে।

গাড়িটির রেকর্ড: অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গাড়ির রেকর্ড পরীক্ষা করা। মানে, গাড়িটি আগে কোনো অ্যাক্সিডেন্টে জড়িয়েছে কি না, তার সার্ভিস ইতিহাস কেমন, এবং মাইলেজ কেমন দিচ্ছে—এসব তথ্য ভালোভাবে জানা জরুরি। এগুলো যাচাই না করলে পরে ব্যবহার এবং মেরামতে সমস্যা হতে পারে। তাই সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনার সময় এই সব তথ্য অবশ্যই খতিয়ে দেখা উচিত।

সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনার আগে অবশ্যই গাড়িটি চালিয়ে দেখে নিন। শুধু নকল চালানোর জন্য নয়, বরং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করা জরুরি। ভিড়যুক্ত রাস্তায়, ফাঁকা রাস্তায়, মসৃণ বা খারাপ সব ধরনের রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে দেখুন। এতে গাড়ির যেকোনো সমস্যা সহজেই নজরে আসবে। পাশাপাশি আপনি গাড়ির মাইলেজ, ব্রেকের কার্যকারিতা, সাসপেনশন ও সাধারণ ড্রাইভিং অনুভূতিও ভালোভাবে যাচাই করতে পারবেন।