ভারতে এক নীরব বিপ্লব চলছে—ঘড়ি খাতে। কেন বলছি? কারণ টাটা গ্রুপের অধীনস্থ সংস্থা টাইটান প্রিমিয়াম লাক্সারি ঘড়ির বাজারে নিজেদের ছাপ রাখতে চাইছে (Swiss Killer Watch)। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে বেঙ্গালুরুর সিলিকন ভ্যালিতে নীরবে কাজ করে চলেছে টাটা গোষ্ঠীর এই সংস্থা।
টাটা গ্রুপের ১৫ লক্ষ ৯৮ হাজার কোটি টাকা বা ১৮ হাজার কোটি ডলার ব্যবসার বিরাট একটা অংশ আসে টাইটানের হাত ধরেই। টাইটানের অধীনে সোনাটা, ফাসট্র্যাক বা তানিস্কের মতো সংস্থা রয়েছে। আর এবার টাটা চাইছে ভারতকে বিলাসবহুল যান্ত্রিক ঘড়ির মানচিত্রে তুলে ধরতে। টাইটানের লক্ষ্য নতুন এই ঘড়ির পিছনে যেন থাকে ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা, ভারতীয় কারুকার্য ও সমস্ত বিষয়টার সঠিক মূল্য।
মাত্র ৬ বছর আগেও টাইটান বছরে ১ কোটি ৫০ লক্ষ সাধারণ কোয়ার্টজ ঘড়ি তৈরি করত। কিন্তু এখন সংস্থা প্রিমিয়াম ঘড়ি তৈরির দিকে মন দিয়েছে। সম্প্রতি তারা বাজারে নিয়ে এসেছে নেবুলা জালসা নামের একটি ঘড়ি, যার দাম ৪৬ হাজার ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৪১ লক্ষ টাকার সমান। এই ঘড়িতে রয়েছে ইন-হাউস ট্যুরবিলন মুভমেন্ট।
টাইটানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বলছেন, “ভারতের বাইরে ভারতীয় গয়নার বাজার রয়েছে, কিন্তু ভারতীয় ঘড়ির বাজার নেই।” তবুও এখন টাইটান মাসে প্রায় ১১ হাজার যান্ত্রিক ঘড়ি তৈরি করছে। তাদের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাজারে ২,৫০০ ডলার থেকে ৬,০০০ ডলারের ঘড়ির বাজার দখল করা।
এখানে চ্যালেঞ্জও কম নয়। বর্তমানে টাইটানের মেকানিক্যাল ঘড়িগুলো সুইস টাইমপিসের মতো নির্ভুল নয়—সুইস ঘড়িতে সময়ের ±৪ থেকে +৬ সেকেন্ডের ত্রুটি হয়, কিন্তু টাইটানের ঘড়িতে তা -১০ থেকে +৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত হতে পারে। তবুও টাইটান বলছে, সাধারণ ক্রেতারা ‘সুইস লেবেল’-এর দিকে নয়, পণ্যের মানের দিকে বেশি মন দেন। সেই কারণেই তারা ফিনিশিং ওয়ার্কশপ তৈরি করছে, যাতে ঘড়ির গুণগত মান আরও উন্নত করা যায়। এর ফলে, আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বনাম মানের লড়াইয়ে ভারতও নিজের ছাপ রাখতে সক্ষম হতে পারে।





